Publisher is the useful and powerful WordPress Newspaper , Magazine and Blog theme with great attention to details, incredible features...

‘এতগুলো লাশ সামনে নিয়ে জানাজায় এই প্রথম’

0 40

‘এতগুলো লাশ সামনে নিয়ে জানাজায় অংশ নেওয়া জীবনে এই প্রথম। ভয়াবহ অবস্থা। লাশগুলো নিতে আসা স্বজনদের আহাজারি, লাশের কফিনের সারিতে দুটো ছোট কফিন…ভাবা যায় না।’

নেপালের বিমানবন্দরে বসে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেলিফোনে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন হোসাইন ইমাম। তিনি ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ২৩ জনের প্রথম জানাজায় অংশ নিয়েছেন। আজ সোমবার সকালে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাঁদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নয়টার দিকে জানাজা হয়।

দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ থেকে যে প্রতিনিধিদল নেপালে গিয়েছিল, সে প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য হোসাইন ইমাম। আজ দুপুরে প্রতিনিধিদলের দুজন পুলিশ সদস্য ছাড়া বাকি ছয়জন সদস্য দেশে ফিরছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে ২৩টি মরদেহ আজ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

হোসাইন ইমাম বলেন, ‘আমি চিকিৎসক। অসুস্থ মানুষ নিয়েই কাজ করি। আমাদের সামনে রোগী মারাও যায়। কিন্তু চোখের সামনে নিজ দেশের এতগুলো লাশের কফিন দেখাটা খুবই “ভয়ানক”। ছোট দুই কফিনের দিকে তাকানোই যাচ্ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে আমাদের নেপাল পাঠিয়েছেন। হাসপাতাল ঘুরে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলাসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু কী যে মন খারাপের মধ্যে কাজ করেছি, তা শুধু আমরাই জানি। এখানে আমরা যাঁরা প্রতিনিধিদলে ছিলাম বা নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের, সবার অভিজ্ঞতাই ছিল একই রকম।’

হোসাইন ইমাম জানান, তিনি সরাসরি কোনো লাশ দেখেননি। লাশ শনাক্তকরণসহ অন্যান্য কাজ করেছেন প্রতিনিধিদলের অন্যরা। তিনি বলেন, ‘কফিনগুলো দেখেই সহ্য করা যাচ্ছে না।’

হোসাইন ইমাম জানান, আহত বাংলাদেশি রোগীদের মধ্যে এখন আর নেপালে কেউ থাকল না। আজ ইয়াকুব আলীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে দিল্লি পাঠানো হয়েছে। আহত আরেক রোগী কবির হোসেনকেও দেশে আনা হচ্ছে। তাঁকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হবে।

বাংলাদেশের তিনজনের লাশ শনাক্তকরণসহ কিছু কাজ বাকি থাকায় দুই পুলিশ সদস্য নেপালে অবস্থান করছেন।

আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হোসাইন ইমাম কফিনের সাদাকালো ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারি নাই…।’

১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার ড্যাস ৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। ৪ ক্রুসহ উড়োজাহাজে ছিলেন ৭১ যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি, ২২ নেপালি, ১ জন চীনাসহ ৪৯ জন নিহত হন। আর ১০ বাংলাদেশি, ৯ নেপালি, ১ মালদ্বীপের নাগরিকসহ ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের কাঠমান্ডুর তিনটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

Comments
Loading...