Publisher is the useful and powerful WordPress Newspaper , Magazine and Blog theme with great attention to details, incredible features...

অবশেষে নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী মহি উদ্দিনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন……..

0 379

অবশেষে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানাধীন ০৫ নং ছয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী মহি উদ্দিনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৬ মে ইউনিয়নের বড়মেহেদী পুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তা রাণী দে তার স্বামী বিষ্ণু চন্দ্র দের বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগ নিয়ে ইউপি অফিসে আসেন। মুক্তা রাণী দাবী করেন, আগেই বিষ্ণু দে কে তার পরিবার ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দিয়েছে; এখন আবারো যৌতুকের জন্য সে মুক্তা রাণীকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করছে।এই সমস্যা দীর্ঘ দিনের।

স্থানীয় মেম্বার ক্যাপে বেলাল বাড়ীতে গিয়ে একাধীক’বার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।মৃত চেয়াম্যান সাহেবের পাশ্ববর্তী বাড়ী হওয়ায বিষয়টা তিনি পূর্ব থেকে জ্ঞাত ছিলেন। মেম্বারের পরামর্শ গতকাল মুক্তা রানী স্বশরীরে ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্বামীর বিরুদ্ধে নালিশ করে।

পরদিন সকাল ১০ টায় চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন মুক্তা রাণীর স্বামী বিষ্ণু দেকে ইউপি অফিসে ডেকে এনে সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার ব্যবস্থা করেন। মুক্তা রাণীর অভিযোগ উপস্থাপনের সময় সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডার বেল্লাল বাহিনীর অন্যতম সদস্য ও যুবলীগ কর্মী আলাউদ্দীন ওরফে দয়াল

      অনুসন্ধানে জানা গেছে, দয়াল স্থানীয় বেল্লাল বাহিনীর সদস্যবেল্লাল জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদের অনুসারী, অন্যদিকে চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন ছিলেন বর্তমান নোয়াখালী-৩ আসনের সাংসদ মামুনুর রশিদ কিরণের অনুসারী। দীর্ঘদিন ধরে বেল্লাল ছয়ানীতে নানা অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যালাপ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বেল্লালের কুকর্মে চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন বাধা হয়ে দাঁড়াতেন বলেই বেল্লালের কর্মী দয়ালসহ অনেকেই চেয়ারম্যানকে প্রায়শই হুমকি ধমকি দিতেন )

বিচার চলাকালীন সময়ে দয়াল আকস্মিকভাবে মুক্তা রাণীর উপর ক্ষেপে গিয়ে তার তলপেটে লাথি মারতে তেড়ে যান।এসময় চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে দয়াল বাবা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন; এমনকি তাঁকে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এক প্রর্যায় তাকে পরিষদ থেকে বাহির হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলে দয়াল মারাত্মক উগ্র হয়ে উঠে। সে চেয়ারম্যান’কে অকথ্য’ভাষায় গালাগাল করে এবং পরিষদের বাহিরে এসে পা চালিয়ে আঁক (দাগ) দিয়ে চেয়াম্যানের শেষ সীমানা নির্ধারন করে দেয়। চলে যাওয়ার সময় উচ্চ’স্বরে ঘোষণা করে যায় যে, এই সীমানার উত্তর (বাজার/জেলাশহর) দিক হারাম করে দিলাম।

তার উগ্রতা/ শোর চিৎকারে বহু মানুষের উপস্থিতি হয় এতে চেয়াম্যান সাহেব অপমান/ মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তাকে বেশ ক্রান্ত এবং অসুস্থ্য পরিলক্ষিত হলে ডাক্তার ডাকা হয়। তাঁর রক্তচাপ অতি উচ্চ মাত্রা দেখে স্থানীয় ডাক্তার দ্রুত মাইজদী যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বেলা ১১.০০’টায় সিএনজি যোগে চেয়ারম্যন চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। বাজারের শেষাংশে (নামাজের চটান) উনার গাড়ী আটকে দেয়া হয়। এখানে চেয়ারম্যানের সাথে থাকা সবুজ নামের এক জনের সাথে আটক কারীদের হাতা-হাতি হয়। প্রায় ১৫’মিনিট বিবাদের পর বাজার ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষের সহযোগিতায় আটক’কারীরা ব্যর্থ হয়, গাড়ি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এরপর বাজারের একদম শেষ’প্রান্তে সিএনজি ইষ্টিশনে আবারো উনার গাড়ী আটক করা হয়। এখানে চেয়াম্যান সাহেব গাড়ী থেকে নেমে আটক কারীদের অনেক অনুনয়-বিনয় করেন। প্রত্যক্ষদর্শী অনেক মানুষ বলেছেন চেয়াম্যন সাহেব জীবনের আশংকা মনে করে, সন্ধ্যায় ফিরে এসে তাদের সকল দাবী-দাওয়া মেনে নেয়ার প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কোন ভাবেই তাদের হেনস্তা/অপমান অপদস্ত থেকে নিজকে রক্ষা/মুক্ত করতে পারেননি।

পরিষদ থেকে মেম্বার (নেজাম, সাহাবউদ্দি) সহ অনেক মানুষ গিয়েও চেয়াম্যানের গাড়ী অবমুক্ত করতে পারেনি। ০.৪৫ সময় ধরে সিএনজি ইস্টিশনে আটক/ অপমান’অপধস্ত/ ক্রান্তিতে তার হ্দদ’ক্রিয়া নিস্তেজ হতে শুরু করে।

এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মহি উদ্দিন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে আটক’কারীরা তার গাড়ী ছেড়ে দেয়। চেয়াম্যানে সঙ্গিরা বলেছে, মেডিক্যালে পৌঁছার মাত্র ২/৩ মিনিট আগে তিনি সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে যান।

তাতক্ষণিক ১২.৪৫ মিনিটে মর্ডান হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

Comments
Loading...